লেখক হায়দার বসুনিয়ার ৭৯তম জন্মদিন

আজ নিভৃতচারী লেখক হায়দার বসুনিয়ার ৭৯তম জন্মদিন

।। খাদিজা তুল কোবরা টুম্পা ।।
আজ নিভৃতচারী লেখক হায়দার বসুনিয়ার ৭৯তম জন্মদিন। ১৯৩৯ সালের ৩০ নভেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার মনারকুঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই লেখক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম. এ, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে এমএড কোর্স সম্পন্ন করেন। বিভিন্ন চাকরির সুযোগ আসার পরও ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিয়ে পেশা হিসাবে শিক্ষকতাকে গ্রহণ করে থেকে যান নিজ গ্রামেই। সাহিত্যের প্রতি দূর্বলতা থেকে নিভৃত পল্লীতে বসবাস করেও লিখে গেছেন অসংখ্য উপন্যাস, কাব্য, শিশুসাহিত্য ও নাটক।

নিভৃতচারী এই লেখক জীবনকে দর্শন করেছে খুব কাছ থেকে। সুক্ষদৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করেছেন চারপাশের ঘটমান বাস্তবতার চিত্র। অতঃপর কলমের কালিতে প্রতিনিয়ত লিখে গেছেন ঘটমান সেসব ঘটনা। তার বেশ কিছু উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য “মেথর সমাচার” “পরিমন্ডলের বিস্তৃতি” “মরার তিস্তা দ্যোতক চিহ্নে” “কামনা” “আপন মনের আরশীতে” ইত্যাদি।

লেখক অবহেলিত, দরিদ্র শ্রেণীর জীবন নিয়েই লিখে লেখাকে প্রাণবন্ত করেছেন সুকৌশলে। সমাজে নিকৃষ্ট হিসাবে পরিচিত মেথরদের নিয়ে লিখেছেন “মেথর সমাচার” উপন্যাস। এ উপন্যাসে দেয়ালিকা চরিত্রটি লক্ষ্য করলে দেখা যায় ভীষণ কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে সন্তান কে উচ্চশিক্ষিত করতে বাবার যে প্রচেষ্টা তা প্রতিটি সন্তানকে একবার হলেও বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ জাগ্রত করবে।

“পরিমন্ডলের বিস্তৃতি” উপন্যাসের নায়ক চরিত্রটি বিএ পাশ করে গ্রামে এসে হেডমাস্টারের চাকুরি নেয়, পাশাপাশি দুইটি এতিম ছেলেমেয়ের দায়িত্ব নেয়। নিজ উদ্যোগে স্কুলের অনেক উন্নয়ন করার পরও এক পর্যায়ে চক্রান্তের স্বীকার হয়ে চাকরি হারাতে হয় তাকে।

“স্বর্গচ্যুতির ইতিকথা” বইটিতে ইমরান মৃধার বিভিন্ন ঘাত প্রতিধাত পেরিয়ে সাফল্য লাভের পরও মৃত্যুর কাছে হেরে যেতে হয়েছিলো সড়ক দূর্ঘটনায়। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর পরিচয় হয় তরুর ব্যাংকার মঞ্জু তালুকদারের সাথে। অতঃপর ভালোবাসার আগমন ঘটে জীবনের প্রয়োজনেই।

“আপন মনের আরশীতে” উপন্যাসে লেখক রাজু চরিত্রটি বেকার জীবনের অসহায়ত্ব কিভাবে একজন মানুষকে নিরবলম্বন করে তোলে তারই প্রকাশ। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও লিখেছেন, “একাত্তরের লারমা সমাচার”।

এছাড়াও তিনি কিশোরদের জন্য লিখেছেন “দুটো পোড়াবাড়ির ইতিকথা” “ভাগ্যোন্বেষী ভবঘুরে” শিশুদের জন্য লিখেছে “তুলোমনি” তুলোমনি শিশুদের কল্পনার রাজ্যের বহিঃপ্রকাশ যা শিশু মনকে উৎসাহিত করতে পারে অচিরেই। তুলোমনির মতো প্রতিটি শিশু কল্পনার রাজ্যে ঘটবে অগাধ বিচরণ।

এভাবেই লেখক সহজ-সরল ভাষায় উপস্থাপনার মাধ্যমে পাঠকদেরর মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন অতি সহজেই। তাঁর প্রতিটি লেখায় ফুটে উঠা তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়গুলো খুব সহজেই সমৃদ্ধ করেছে তাঁর চিন্তাধারাকে।

নিভৃতপল্লীতে বসবাস করেও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ থেকেই জীবনের শেষ বয়সেও এসে সাহিত্যচর্চা করে যাচ্ছেন অনবরত। লিখছেন কবিতা, উপন্যাস, গল্প। কলমের খোঁচায় লিখছেন সমাজের কথা, পরিতৃপ্ত হচ্ছেন নিজে এবং সমৃদ্ধ করছেন সাহিত্যকে। লেখকের জন্মদিনে তাঁর সার্বক্ষণিক সুস্থতাকামনাসহ তাঁর সফল অগ্রযাত্রার জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানাচ্ছে তাঁর পাঠক গোষ্ঠী।