রাজারহাটে হামলায় নিহত-১, গ্রেপ্তার-৩

রফিকুল ইসলাম:
রাজারহাটে পূর্ব শক্রতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আক্কাস আলী (৩০) নামের ১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে বিবাদী গংদের পৃথক ৫ টি বাড়ীতে হামলা চালিয়ে কোটি টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা।

এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের ফুলখাঁ মুজাহিদ পাড়ায় শনিবার ঈদের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ ঘটিকায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোটভাই খোরশেদ আলম বাদী হয়ে ১৬ জনের নামে রাজারহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১, তাং-০২-০৮-২০২০ ইং। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-রোস্তম আলী মাষ্টার (৫৫), মোছা: ছালমা বেগম (৩৫) ও জুয়েল রানা (২৭)।

সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের ফুলখাঁ মুজাহিদ পাড়ায় ঈদের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ ঘটিকার দিকে পূর্ব শক্রতার জের ধরে কথা কাটির একপর্যায়ে বিবাদী সাইফুল হাজী গংরা পার্শ্ববতী মৃত খতিব উদ্দিনের পুত্র আক্কাস আলী (৩০), চাঁদ মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া (১৭) কে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
পরে তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন দিবাগত রাত ১ ঘটিকার দিকে আক্কাস আলী মারা যায়। বর্তমানে সুমন মিয়া একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঈদের দিন বাদ মাগরিব হামলার পরপরই রাত ৮ ঘটিকার দিকে আক্কাস আলী ও সুমন মিয়া মারা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে এলাকার কিছু দুর্বৃত্তরা সংঘটিত হয়ে বিবাদী সাইফুল হাজী গংদের ভাই ও ছেলের পাঁচটি পৃথক বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গরু- ছাগল, ধান-চাল সুপারি-পাটসহ বাড়ীর আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

একাধিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই ৫ টি পরিবারের ঘরের সব জিনিস লুটপাট হয়েছে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে সব কিছু পড়ে আছে এমনকি শয়ন ঘরের খাট পর্যন্ত নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। ওই বাড়িগুলোতে এখন ভুতুরে অবস্থা বিরাজ করছে।

থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিবাদী সাইফুল হাজী’র বাড়ীর উঠানে পুলিশি প্রহরা দিতে দেখা গেছে। শনিবার দিবাগত রাতে রাজারহাট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করার খবর নিশ্চিত করেছেন রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাজু সরকার। তদন্তপূর্বক ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য এলাকার সচেতন মহলের দাবি পুলিশ প্রশাসনের নিকট।