ঈদের আনন্দ ম্লান বানভাসীদের, কৃষকের মাঝে বিনাশাইল জাতের ধানের চারা বিতরণ

ঈদের আনন্দ ম্লান বানভাসীদের, কৃষকের মাঝে বিনাশাইল জাতের ধানের চারা বিতরণ

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত,রাজারহাট(কুড়িগ্রাম)|ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত রাজারহাটের বানভাষী কৃষকরা‘ছ্যার কইল এইল্যা বিছন গাড়লে সবার আগত ধান হোবে,এবার মুই ২বিঘা জমিত আমন ধান নাগাছিনু, হুমমুত করি বান আসি সব খায়া গ্যাল। মুই সারাবাড়ি বিছন খুঁজি পাং নাই। মনে করছিলুং এবার আর জমি গাইরবার পাবার নং। কিন্তু উপজেলাত থাকি কৃষি ছ্যার যায়া মোর নাম নেকি আনি ১বিঘা গাড়ার আন্দাজে বিছন দ্যাইল। ছ্যার কইল এইল্যা বিছন গাড়লে সবারে আগত ধান হোবে। তাহলে তো মোর ভালই হোবে বাহে। কথাগুলো আনন্দের সাথে বলছিলেন এবারের শ^রণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়া এলাকার শাহাদত আলী(৭৫)। সরকারের কৃষি পূনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় ৩০ আগষ্ট বুধবার কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ার চর এলাকার ৫০জন কৃষকের মাঝে বিনাশাইল জাতের ধানের চারা বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি চাষী আঃ সালাম, উপজেলা কৃষি অফিসার ষষ্টি চন্দ্র রায় ও ক্ষতিগ্রস্থ ছিনাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ নুরুজ্জামান হক বুলু। অনুষ্ঠান থেকে বিনাশাইল ধানের চারা নেয়ার পর কৃষক শাহাদত আলী এ প্রতিবেদকের কাছে এ কথাগুলো বলেন। শুধু শাহাদত আলী নয় ওই এলাকার কয়সার আলী(৪৫), মনতাজ আলী(৪২), আইয়ুব আলী(৫৫), মেহের জামাল(৪৫)শমসের আলী(৫০), কছিমুদ্দিন(৬২) ও সবরুল (৫২)সহ প্রায় সহ¯্রাধিক কৃষকের একই অবস্থা। এবারের বন্যায় অনেক কৃষক সর্বস্ব হারিয়েছেন। তাদের পক্ষে জমি প্রস্তুত করে আবার নতুন করে আমন ধানের চারা রোপন করা সম্ভব নয়। এমন কৃষক নির্ধারণ করে জেলা-উপজেলা কৃষি অফিস তাদের হাতে আমন ধানের চারা তুলে দিচ্ছেন। এবারের বন্যায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন বিনিষ্ট হয়। এই সময় কৃষকরা এবারের আমন ধানের সব চারা রোপন প্রায় শেষ করে। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা চারা সংকটে পড়ে। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোতে নতুন করে রোপন কার্য শুরু করেছেন। কৃষকরা মনে করছেন এসব চারা চড়া দামে কিনে রোপন করলেও ফলন ভাল হবে। পাশাপাশি কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা এসব বিনিষ্ট জমিতে চারা রোপনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক কৃষকের মাঝে উদ্যম ফিরে আসছে। অনেকেই দুর-দুরান্ত থেকে চারা আমদানি করার জন্য ছুটাছুটি করছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছেন। সবমিলে বন্যার পরবর্তী সময়ে কৃষকরা বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি আমন মৌসুমের ফসল ফলিয়ে ধকল সামলিয়ে উঠতে আবারো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। এবারে ঈদ কেমন হবে জানতে চাইলে কৃষক সোবহান আলী(৭০) বলেন, প্রত্যেক বারে ঈদত গরু কোরবানী দিছনু। এবার বানে সইগ খায়া গ্যাছে। কোরবানী দিবার পাবার নই। মোর ৫বিঘা জমি খায়া গ্যাছে, বিছন খুঁজি ব্যারবার নাগছং, ওরল্যা ন্যাইয়া দৌড়া ঝাঁপা করছি। ঈদ হবার নয়। ছাওয়াগুলারও ঈদ নাই। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো নানামূখী সমস্যার সম্মখীন হওয়া তাদের মাঝে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ৩০ আগষ্ট বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কালুয়ার চর এলাকায় পূনর্বাসনের জন্য ৪টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করেছেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.