রাজারহাটে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে স্মারকলিপি প্রদান

রাজারহাটে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে স্মারকলিপি প্রদান

বিশেষ প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে চাকিরপশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরমোহাম্মদ নুরু স্বাক্ষরিত একটি লিখিত স্মারকলিপি সোমবার(১৭ সেপ্টেম্বর) রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদ আলীর যোগসাজসে অত্র প্রতিষ্ঠানের পুরনো দু’টি এন্ট্রি কড়ই গাছ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে মৃত দেখিয়ে নামমাত্র নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ওই দিন গাছ কাটার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করলে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ: রাশেদুল হক প্রধান সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অপরদিকে প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণকমল তার পছন্দের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদ আলীকে গোপনে সভাপতি বানিয়ে রাতারাতি কমিটি গঠন করে। কমিটি গঠনের পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের পুকুরে ড্রেজার লাগিয়ে মাসের পর মাস বালু উত্তোলন পূর্বক বিক্রি করে বিদ্যালয়টির উন্নয়ন করার নাম করে সমুদয় অর্থ আত্মসাত করে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজন।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কমল দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করায় তার অনিয়মের বিষয়ে সহজে কেউ মুখ খুলতে চান না। সঠিকভাবে পাঠদান না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের হার প্রতি বছর হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নামে সরকারিভাবে বরাদ্দের স্লিপের অর্থ, বিদ্যালয়ের পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রির অর্থ নামমাত্র কাজ দেখিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী অবিলম্বে এসব অপকর্মের সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ম্যানেজিং কমিটি পুর্নগঠনের দাবী জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ: রাশেদুল হক প্রধান বলেন, তদন্ত পূর্বক অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কমল প্রতিষ্ঠানের পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এখনো মাঠে কিছু বালু রয়েছে, আর কিছু বালু বিক্রি করে উত্তোলনের খরচ দিয়েছি। আর অন্যান্য অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।