রাজারহাটে তিস্তার চরাঞ্চল ও নিন্মাঞ্চলে বন্যা ॥ প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি

রাজারহাটে তিস্তার চরাঞ্চল ও নিন্মাঞ্চলে বন্যা ॥ প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি

।। নিউজ ডেস্ক ।।

করোনার প্রভাবে টানা দুই বছরের ক্ষতির রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুষ্ক মৌসুমে আকস্মিকভাবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার রাতে পানির প্রবল তোড়ে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ডাংড়া দাড়িয়ার পাড় বাঁধ ভেঙ্গে গেলে এলাকাবাসীরা রাতেই সে বাঁধ বালুর বস্তা ফেলে মেরামত করে। তলিয়ে যায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির আলু-বাদাম ও রোপা আমন ধানক্ষেত। ডুবে গেছে প্রায় ৩ শতাধিক পুকুর। ফলে বন্যায় লোকসানে পথে বসার উপক্রম হয়েছে চাষীরা। কেউ কেউ ঋণের টাকা নিয়ে বেশি লাভের আশায় আগাম জাতের শীতকালীন সবজি রোপণ করেছিলেন। স্বাবলম্বী হওয়ার বদলে আকস্মিক এ বন্যায় এখন তারা নিঃস্ব। কৃষকদের চোখে-মুখে হতাশার হাতছানি দেখা দিয়েছে।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার, বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মো: তাইজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিগণ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’টি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত ১০০০ পরিবারের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দ্দী বাপ্পি ও ইউএনও নূরে তাসনিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম মন্ডল সাবু, ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার, মো: তাইজুল ইসলাম প্রমূখ।

গত বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুরের দিকে রাজারহাট উপজেলার কাউনিয়া পয়েন্টে আকস্মিকভাবে পানি বাড়তে শুরু করে। বিকেল গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে প্রবল বেগে পানি উপজেলার চর খিতাব খাঁ, চর গতিয়াসাম, চর বিদ্যানন্দ, চর রামহরি, চর তৈয়বখাঁ গ্রামে প্রবেশ করে। এতে সহ¯্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তলিয়ে যায় তিস্তার চরের আনুমানিক ৫০০ হেক্টর জায়গা জুড়ে আলু-বাদামসহ রোপা আমন ধানক্ষেত। আকস্মিক বন্যায় মাঝ রাতেই ডুবে যায় এসব এলাকার প্রায় ২ শতাধিক পুকুর।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেকের রান্না ঘরে পানি ওঠায় বন্ধ রয়েছে রান্না। নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারে নেই শুকনো খাবার। গবাদি পশু নিয়ে সঙ্কটে রয়েছে বানভাসি পরিবারগুলো । কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় কাউনিয়া পয়েন্টে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘন্টা পর পানি কমতে শুরু করবে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম বলেন, ডিসি স্যার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জন্য রান্না করা খাবার খিচুরিসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা দু’টি ইউনিয়নে ১০ মে:টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বন্যা কবলিতদের নিরাপদ স্থানে ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া তাদের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রয়েছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সুষ্ঠভাবে তা মনিটরিং করার মাধ্যমে বিতরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ২২ অক্টোবর শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনে আসছেন।

//নিউজ/রাজারহাট//রফিকুল ইসলাম/অক্টোবর/২১/২১

Leave a Reply

Your email address will not be published.